উচ্চ শুল্ক থেকে জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের কিছুটা ছাড় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও দেশটির ছোট গাড়ি কোম্পানির জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবেই রয়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে চাপের মুখে থাকবে জাপানের কিছু অটো ব্র্যান্ড। খবর রয়টার্স।
শুরুতে জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত গাড়ির ওপর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় তা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে ছাড়কৃত শুল্ক কার্যকর হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৫ শতাংশ শুল্ক টয়োটা ও হোন্ডার মতো বড় কোম্পানিগুলো সামাল দিতে পারবে। এর বিপরীতে বিপত্তিতে পড়বে মিৎসুবিশি মোটরস, মাজদা ও সুবারুর মতো তুলনামূলক ছোট বাজারব্যাপ্তির কোম্পানিগুলো। কারণ বড় কোম্পানিগুলোর বাজার বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হলেও এ কোম্পানিগুলো অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা গাড়ির দাম বাড়াতে পারে। কিন্তু তা মার্কিন বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের চাপ মোকাবেলায় মিৎসুবিশি, মাজদা বা সুবারুর মতো কোম্পানিগুলো হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যেতে পারে। এমনো হতে পারে, কিছু মডেল আর বাজারে আসবে না বা কোম্পানিগুলো মার্কিন বাজার থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমদানীকৃত জাপানি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমালেও তা এপ্রিলের আগের ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে এখনও ছয় গুণ বেশি। গত সপ্তাহে চলতি বছরের জন্য দেয়া মুনাফার পূর্বাভাস সংশোধন করে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়েছে মিৎসুবিশি। অন্যদিকে মেক্সিকোর কারখানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাজদার রফতানি শুল্ক আরোপের পর অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।
নতুন এ শুল্ক হার দু-এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন জাপানের এক শীর্ষ কূটনীতিবিদ। তবে এ শুল্কছাড় মেক্সিকো ও কানাডার উৎপাদন কেন্দ্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এর অর্থ হলো, জাপানি গাড়ি নির্মাতারা দেশ দুটি থেকে গাড়ি রফতানির ক্ষেত্রে এখনো বেশি শুল্কের মুখোমুখি হতে পারে। এতে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে নর্থ আমেরিকান ট্রেড এগ্রিমেন্ট। এ চুক্তির অধীনে শুধু আমদানীকৃত গাড়ির যেসব যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নয়, তার ওপর শুল্ক বসবে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ ৬৮ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে সুবারু। মাজদা ও মিৎসুবিশি সরবরাহ করেছে যথাক্রমে ৪ লাখ ২৪ হাজার ও ১ লাখ ১০ হাজার ইউনিট। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এ তিন কোম্পানির রফতানীকৃত গাড়ির পরিমাণ টয়োটার ২৩ লাখের অর্ধেকেরও কম।
মার্কিন শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রে মিৎসুবিশির গাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, গড়ে ২ হাজার ৪০৩ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধিতে নাম রয়েছে সুবারুর, ৮২৪ ডলার।